Posts

                                আমি প্রণতি চক্রবর্তী আমি প্রণতি চক্রবর্তী। বয়স এখন বাহাত্তর। এই বয়সে এসে জীবনের পেছনদিক দিনের অনেকটা সময় জুড়ে থাকে। কত কথা মনে পড়ে। এখন আর তখনের মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। এ যেন এক অন্তবিহীন পথ পেরিয়ে আসার গল্প। অন্তবিহীন পথ পেরিয়ে নিজের কাছে ফিরে   আসার গল্প। ধর্মনগরে জন্ম। সেখানেই বড় হওয়া। বাবা গার্লস ইশকুলের ইংলিশের শিক্ষক ছিলেন। খুব ভাল পড়াতেন বলে নামডাক ছিল। অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার ছিলেন। স্কুলের লাগোয়া সরকারি কোয়ার্টারে দুই বোন, অলি আর মলি, এক ভাই প্রবাল, বড় হয়েছি। বাড়িতে বাবা আমাদের যত্ন করে পড়াতেন। কেরানি আর মাস্টার, এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিভিন্ন সরকারি অফিসের ছোটবড় অফিসার – এই পর্যন্তই ছিল এই শহরের চিকুরিজীবীদের সংখ্যা। আর ছিলেন কয়েকজন উকিল, জনা তিনেক সরকারি ডাক্তার, কয়েকজন নার্স। আর সব ছোটখাটো ব্যবসায়ী, দোকানদার। কাঁচাপয়সা কামানো কনট্রাক্টরও ছিলেন কয়েকজন। সবাই সবাইকে চিনতেন, কিন্তু মেলামেশা করতেন পদমর্যাদা বুঝে। অফিসাররা সাধারণ চাকরেদের সাথে মিশতেন না। তাদের...

কচুয়া শাড়ি দারাসিং লাফ

                                       শাবানা বেগম গায়ে খেটে সংসার চালায়। সংসারটা ছোট। এক মেয়ে দীপ্তি, দুই ছেলে রিয়াজ আর রমিজ। মাত্র বাইশ বছর বয়সে বিধবা হয়ে দ্বিতীয়বার নিকা হতে পারত শাবানার। কিন্তু সে   সেই পথে হাঁটে নি। সে জানত, নিকা হলেও তাকে গায়ে খেটেই পেট চালাতে হবে।   ফুলপুর এক অজ পাড়াগ্রাম। এখানে গায়ে খাটা মানে ধনী লোকের বাড়িতে উঠান ঝাড়ু দেয়া থেকে গরুবাছুরের কুড়াসিদ্ধ করা, ধান পাকলে উঠানে সেই ধান শুকানো, রসুইঘরে ঢিপি-ঢিপি পেঁয়াজ-রসুন কাটা, যত রকমের ঝড়তি-পড়তি কাজ থাকে সংসারে – সব করা। আল্লাহ্‌ রহম,   শাবানার স্বাস্থ্য ভালো। শরীরে রোগ-বালাই নেই। শীত-গ্রীষ্ম তাকে কাবু করতে পারে না। খুব সে খাটে। চারটি পেট ভরাতে গিয়ে খাটনির একশেষ করে ছাড়ে সে। সমস্যা হয়, পেটগুলো যখন দিনদিন বড় হয়। ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার জন্য রিয়াজ-রমিজকে ইস্কুলে ভর্তি করে দিয়েছে শাবানা। তারা যায় ইস্কুলে, লেখাপড়ায় মন আছে। কিন্তু উঠতি বয়সের খুদা তাদের। ডাইল-ভাতের ব্যবস্থা করতে গিয়ে কুল পায়না শাবানা। এম...

স্ত্রীর পত্র

                                                                                                                          আমার বিদ্যার দৌড় ক্লাস নাইন পর্যন্ত। একটু বাড়িয়েই বললাম। নাইনে উঠতে না উঠতেই আমার বিয়ে হয়ে গেল। কাজেই নাইনের বিদ্যা লাভ হল কই! এখানে সকলেই নিজের সম্পর্কে বাড়িয়ে বলে। আমিও সকলের মতোই হব, সে তো স্বাভাবিক কথা। পড়া শেষ হওয়ার আগে বিয়ে হলে অনেকে কান্নাকাটি করে। তারা লেখাপড়া করে ...

মনা দাসের গল্প

                                                                                  মামাবাবু মরেছে আজ তিনদিন। সেই থেকে চেষ্টা করছি যাওয়ার। পারছি না। পার করানোর জন্য কারবারি নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে। পাঁচশ টাকার কড়কড়া দশটি নোট আগাম ধরিয়েছি ওর হাতে। তারপর থেকে রোজ রাতে এসে ওর বাড়িতে বসে থাকছি। সুবিধা মতো পার করিয়ে দেবে। আগে পার করানোর জন্য বাঁশের চকম* ছিল। এখন কাঠের শক্তপোক্ত চকম বানিয়েছে। কিন্তু হলে কী হবে, ফাঁক পাচ্ছে না, যখন বি.এস.এফ. টহলে ঢিলা দেবে আর কারবারি কাঁটাতারের বেড়ায় চকম ধরবে আর আমি বেড়ালের মতো মুহূর্তে চকম বেয়ে উঠে ওইদিকে লাফ মারব। হ্যাঁ, বেড়ালের মতোই নিঃশব্দে লাফিয়ে পড়তে হবে। ‘...