অনন্যা
গেট খুলে ঢুকতেই টুনু বলে – ‘বৌদি, অনুদি আইছে মাইয়ারারে লইয়া …..তিনডা মাইয়াই ল্যাংডা!’ শুনে জিভে কামড় দেয় কবিতা। অনুকে নিয়ে আর পারা যাচ্ছে না। এবার কোন ঝগড়া পাকিয়ে এসেছে কে জানে। ভেতরের উঠানে অনু শুভশ্রীর সাথে এক্কা-দোক্কা খেলছিল। বাঁ হাতে শাড়িটা প্রায় হঁটুর ওপর তুলে এক ঠ্যাঙে অনায়াসে লাফ মেরে মেরে মাটিতে আঁক কাটা ঘরগুলো পেরিয়া যাচ্ছিল। দিদিকে আসতে দেখে শাড়ি নামিয়ে সে দৌড়ে এগিয়ে আসে। দিদি চোখ পাকিয়ে তাকায়। বোনের সাথে একটি কথাও না বলে ঘরে গিয়ে ঢোকে। কবিতাকে দেখে শাশুড়ি বলেন – ‘তোমরা অরে অত তাড়াতাড়ি বিয়া না দিলে পারতা …..!’ এই অভিযোগে অভ্যস্ত হয়ে গেছে কবিতা। উনিশ বছর বয়সেই সে বোনের বিয়ে কেন দিয়েছিল, এখন এসে সেই তর্কে লাভ নেই কোনো। গল্পটি লম্বা। কবিতারা ছোটবেলা বাংলাদেশে কাটিয়েছে। ভালো অবস্থা ছিল তাদের। কিন্তু পরপর মা-বাবা মারা গেলেন। কাকামণি খবর পেয়ে তাদের দু’বোনকে আগরতলা নিয়ে এলেন। কবিতার বয়স তখন সতর। সবে ম্যাট্রিক পাশ করেছে। অনিতার পাঁচ। অনু তার চাইতে বারো বছরের ছোট। কাকামণির কাছে আদরে ছিল তারা। কবিতাকে ইশকুলে ভর্তি করে দিলেন। আবার করে মাধ্যমিক পাশ করল সে। তারপর উচ্চ-মাধ্য...