Posts

Showing posts from December, 2022

অনন্যা

গেট খুলে ঢুকতেই টুনু বলে – ‘বৌদি, অনুদি আইছে মাইয়ারারে লইয়া …..তিনডা মাইয়াই ল্যাংডা!’ শুনে জিভে কামড় দেয় কবিতা। অনুকে নিয়ে আর পারা যাচ্ছে না। এবার কোন ঝগড়া পাকিয়ে এসেছে কে জানে। ভেতরের উঠানে অনু শুভশ্রীর সাথে এক্কা-দোক্কা খেলছিল। বাঁ হাতে শাড়িটা প্রায় হঁটুর ওপর তুলে এক ঠ্যাঙে অনায়াসে লাফ মেরে মেরে মাটিতে আঁক কাটা ঘরগুলো পেরিয়া যাচ্ছিল। দিদিকে আসতে দেখে শাড়ি নামিয়ে সে দৌড়ে এগিয়ে আসে। দিদি চোখ পাকিয়ে তাকায়। বোনের সাথে একটি কথাও না বলে ঘরে গিয়ে ঢোকে। কবিতাকে দেখে শাশুড়ি বলেন – ‘তোমরা অরে অত তাড়াতাড়ি বিয়া না দিলে পারতা …..!’ এই অভিযোগে অভ্যস্ত হয়ে গেছে কবিতা। উনিশ বছর বয়সেই সে বোনের বিয়ে কেন দিয়েছিল, এখন এসে সেই তর্কে লাভ নেই কোনো।   গল্পটি লম্বা। কবিতারা ছোটবেলা বাংলাদেশে কাটিয়েছে। ভালো অবস্থা ছিল তাদের। কিন্তু পরপর মা-বাবা মারা গেলেন। কাকামণি খবর পেয়ে তাদের দু’বোনকে আগরতলা নিয়ে এলেন। কবিতার বয়স তখন সতর। সবে ম্যাট্রিক পাশ করেছে। অনিতার পাঁচ। অনু তার চাইতে বারো বছরের ছোট। কাকামণির কাছে আদরে ছিল তারা। কবিতাকে ইশকুলে ভর্তি করে দিলেন। আবার করে মাধ্যমিক পাশ করল সে। তারপর উচ্চ-মাধ্য...

আরতি তালগাছ বিড়ি

                                   সাত সকালে আরতিকে আসতে দেখে মেজাজ চটকে যায় সুব্রত চক্রবর্তীর । সুব্রত তো সাফ বলেই দিয়েছে - ওসব কাগজপত্র নেই তার কাছে । তবু পিছু ছাড়ছে না মহিলা । এন . আর . সি-তে নাম ওঠাতে গেলে কাগজপত্র জমা দিতে হবে । নাগরিকত্বর দাবির প্রমাণ দিতে হবে । আরতির কাছে কোনোও প্রমাণ নেই যে সে এই রাজ্যে অন্তত : ছয় পুরুষের বাসিন্দা । বাড়ি এবং জায়গাজমির দলিলে আরতির স্বামীর নাম আছে । তাই দলিলের নকল চেয়ে একমাস ধরে হাঁটাহাটি করছে আরতি । আরতি সুব্রতর ছোট কাকিমা । কাগজের জন্য বারবার এসে তাগাদা দিচ্ছে । সুব্রত কী করে দেবে তা । একবার কাগজ পেলে তো জমির আয়ের ভাগও চাইবে কাকিমা । কাকিমা আর আগের   মতো নির্বোধ নয় । এবং তাকে মন্ত্রণা দেয়ার লোকও জুটেছে কিছু । আচ্ছা ফ্যাসাদে পড়েছে সুব্রত । এসব কিছুই হত না , যদি না সুব্রত...